নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা তিন দিন আংশিক কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়ে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে পূর্ণ ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যান তারা। এই কর্মসূচি বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
বার্থ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পরই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে পুরোনো জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, সকালে কিছু সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে সীমিত পরিসরে কাজ চলছিল। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হলে ওই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বন্দরের ভেতরে এখন কোনো ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, এদিন কোনো জাহাজ বন্দরে ঢুকছে না বা বন্দর ত্যাগও করছে না।
কর্মবিরতির প্রভাব বন্দর এলাকার বাইরেও পড়েছে। সকাল থেকে দেশের ১৯টি বেসরকারি মালিকানাধীন ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি)-তে আমদানি, রপ্তানি ও খালি কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনটেইনার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কম্পিউটারাইজড টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বন্দর কর্মচারীরাও কাজ বন্ধ রাখায় পুরো ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)।