পররাষ্ট্রনীতি দলীয় প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পররাষ্ট্রনীতি দলীয় প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
পররাষ্ট্রনীতি দলীয় প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ভাবমূর্তি সংকট (ইমেজ ক্রাইসিস) তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে—এমন মত দিয়েছেন পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে কার্যকর অবস্থান নিতে এই সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বৈদেশিক নীতি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব মতামত তুলে ধরা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের বড় দাবি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার যেই আসুক না কেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে এবং টেকসই কৌশল গড়ে তোলা জরুরি।

আমেনা মহসিন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভিসা জটিলতা ও পাসপোর্টের মান কমে যাওয়ার বিষয়টি এই সংকটকে আরও গভীর করছে। তিনি বলেন, এই ইমেজ ক্রাইসিস আংশিকভাবে দেশের ভেতর থেকেই তৈরি হচ্ছে, আবার বাইরে থেকেও তা জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সরকারকে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও সহিংসতার বিষয়গুলো অস্বীকার না করে সেগুলোর ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে আমেনা মহসিন বলেন, কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে এবং সন্ত্রাসবাদের মতো অভিযোগ তুলছে। এসব অভিযোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। এর সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা পররাষ্ট্রনীতিতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং অতিমাত্রায় বিদেশ সফরের মাধ্যমে সময় ও সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাম দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর ভিত্তি করে জনগণের স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কথা বলা হয়েছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করা সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও বৈদেশিক নীতি নিয়ে আলাদা কোনো কমিশন হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধানেও অগ্রগতি নেই।

আলোচনায় আরও অংশ নেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, গবেষক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চান্দনা-চৌরাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ, এজেন্ট ব্যাংকের টাকা লুট

চান্দনা-চৌরাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ, এজেন্ট ব্যাংকের টাকা লুট