যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ অস্থায়ী ভিসাধারীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ আবেদনকারী আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সরাসরি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) প্রকাশিত নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এতদিন বহুল ব্যবহৃত “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” পদ্ধতিতে অস্থায়ী ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। তবে নতুন নিয়মে এই পদ্ধতিকে আর সাধারণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এর পরিবর্তে “কনস্যুলার প্রসেসিং” হবে আবেদন নিষ্পত্তির প্রধান উপায়।
এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে চাকরি পেলে যুক্তরাষ্ট্র না ছেড়েই ভিসার ধরন পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। এতে তারা আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েও বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতির ফলে সেই সুযোগ অনেকাংশে সীমিত হয়ে গেছে।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এখন থেকে শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে। অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর। এতদিন তারা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির আওতায় কাজ করে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই পথ আরও জটিল হয়ে উঠবে।
নতুন নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন কেসভিত্তিক মূল্যায়ন করবেন এবং তাদের বিবেচনাধিকার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ইবি-১ বিভাগটি বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়ায় অসাধারণ দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। এছাড়া ইবি-২ বিভাগ উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এবং ইবি-৩ বিভাগ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য প্রযোজ্য।
সাধারণত এসব ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অভিবাসন আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ পান।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন এই নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করা এবং আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা। এর মাধ্যমে অন্যান্য অভিবাসন আবেদন নিষ্পত্তিতেও আরও বেশি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক বৈধ অভিবাসীর কর্মজীবন ও স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। তারা মনে করছেন, নতুন নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও দেখা দিতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যেসব আবেদন জাতীয় স্বার্থ বা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। তারপরও অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য কনস্যুলার প্রসেসিং এখন গ্রিন কার্ড আবেদনের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক