রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বড় আকারের ড্রোন অভিযান। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ইউক্রেন একযোগে ৬৬০টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ১২টি অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং পার্শ্ববর্তী সাগর এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মস্কোর দাবি, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা। এর আগে ইউক্রেনের সর্ববৃহৎ ড্রোন অভিযানে ৫৫৬টি ড্রোন ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া।
দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার এবং অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার ফলে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং যুদ্ধ পরিচালনায় অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রুশ গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় একটি রাসায়নিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, নোভোমোস্কোভস্ক এলাকার একটি রাসায়নিক কারখানা এবং একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে আগুন লাগে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি এবং রুশ কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি।
এদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা ৪৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছে, অধিকৃত ক্রিমিয়ার কের্চ বন্দরে অবস্থানরত রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সফল ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে সামরিক অভিযানের সাফল্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পৃথক দাবি করে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে এসব তথ্যের অনেকগুলোই স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাপ্রবাহ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক