মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির উৎপাদন, ভোগ ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা Office for National Statistics (ওএনএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.১ শতাংশ কমেছে। এর আগে মার্চ মাসে অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবার নেতিবাচক প্রবণতায় ফিরে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, এই অর্থনৈতিক সংকোচনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং দৈনন্দিন ভোক্তা ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে সতর্ক হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। এসব মিলেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে।
ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল এবং মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছিল। তবে নতুন পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এমন একটি বিষয় নয় যা যুক্তরাজ্য চেয়েছিল, কিন্তু এর প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতেও পড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের এই বৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু ভোক্তা পর্যায়েই নয়, শিল্প উৎপাদন ও পরিষেবা খাতেও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলও ব্যাহত হতে পারে, যা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার নীতিতে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে, যা ঋণ গ্রহণ, বিনিয়োগ এবং আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলবে।
তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক গতি অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক