সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও ব্রিটেনের ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না রাজা তৃতীয় চার্লস। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা আগের মতোই লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসকে নিজেদের ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করবেন। তবে বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রধান প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
রাজপরিবারের কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় অনুষ্ঠান আগের মতোই বাকিংহাম প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে। রাজার কোষাধ্যক্ষ এবং প্রিভি পার্সের রক্ষক জেমস চালমার্স বলেন, বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে তার ঐতিহাসিক মর্যাদা বজায় রাখবে।
১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজা বা রানির প্রধান লন্ডন বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ৭৭৫ কক্ষবিশিষ্ট এই প্রাসাদ শুধু রাজপরিবারের আবাসনই নয়, বরং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আয়োজনেরও অন্যতম কেন্দ্র।
বর্তমানে প্রাসাদটিতে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া বৃহৎ সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলছে, যা আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৩৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং গরম করার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যাতে ভবনটি আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
এদিকে রাজপরিবার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বাকিংহাম প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই সঙ্গে রাজা তৃতীয় চার্লস ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ব্যক্তিগতভাবে ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজা হওয়ার পর এই প্রথমবার তার ব্যক্তিগত করের তথ্য প্রকাশ করা হলো। এছাড়া সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম একই সময়ে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন।
কসমিক ডেস্ক