ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাতের এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট একটি প্রধান কেন্দ্র, একটি গুদাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি স্থাপনা এবং আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সর্বশেষ আপডেটে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইরানের ওপর হামলা আরও বাড়াবে, এবং সেই প্রেক্ষাপটে তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সময় টাইমস অব ইসরায়েলের লাইভ আপডেটে আইডিএফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, রাতভর তেহরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত “ডজনখানেক” লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অর্থাৎ, ইসরায়েলের সামরিক ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো একক স্থাপনায় সীমিত আঘাত ছিল না; বরং বৃহত্তর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নেটওয়ার্ককে দুর্বল করার প্রচেষ্টা ছিল।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে আনা। এই দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রে উঠে এসেছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করার ঘটনাও রয়েছে। ফলে তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলার এই দাবি বৃহত্তর সামরিক পাল্টাপাল্টির ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে হামলার প্রকৃত ফলাফল নিয়ে এখনো স্পষ্ট ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ইসরায়েল বলছে, তাদের আঘাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা “উল্লেখযোগ্যভাবে” কমেছে, কিন্তু এর পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বা স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সামনে আসেনি। হতাহত, অবকাঠামোগত ধ্বংস বা উৎপাদন সক্ষমতা কতটা ব্যাহত হয়েছে—এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি। তাই এই মুহূর্তে ঘটনাটিকে মূলত ইসরায়েলের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা যুক্তিযুক্ত।
এ ধরনের হামলার আরেকটি বড় তাৎপর্য হলো, তেহরানের ভেতরে কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখানো। ইরানের রাজধানী ও তার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো মানে কেবল সামরিক বার্তা দেওয়া নয়, বরং প্রতিপক্ষের কমান্ড, সরঞ্জাম উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে এটি ইরানের জন্যও প্রতিক্রিয়া জানানোর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ইসরায়েল তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে এই দাবির সম্পূর্ণ সত্যতা, হামলার বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতায় এর প্রকৃত প্রভাব স্বাধীনভাবে এখনো যাচাই হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সরকারি বক্তব্য, স্যাটেলাইট চিত্র, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং নিরপেক্ষ যাচাই সামনে আসা পর্যন্ত সতর্ক ভাষায়ই ঘটনাটি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক