থাইরয়েড মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি, যা গলার সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (T4) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (T3) হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, ওজন, তাপমাত্রা এবং মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় থাইরয়েড রোগ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে থাইরয়েড সমস্যাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম। হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রোগী সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, ওজন বেড়ে যায়, ঠান্ডা সহ্য করতে পারেন না, চুল পড়ে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, যার লক্ষণ হিসেবে দ্রুত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম, ওজন কমে যাওয়া, অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের মধ্যে থাইরয়েড রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। বংশগত কারণ, আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ, অটোইমিউন রোগ, মানসিক চাপ এবং কিছু ওষুধ থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মা ও শিশুর উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করা হয়, যেখানে TSH, T3 ও T4 হরমোনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়া জরুরি। সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।
সব মিলিয়ে, থাইরয়েড রোগ ভয়ংকর না হলেও অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার জন্ম দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।
কসমিক ডেস্ক