চিনি কি সত্যিই ক্যান্সারের কারণ? যা বলছে বিজ্ঞান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চিনি কি সত্যিই ক্যান্সারের কারণ? যা বলছে বিজ্ঞান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
চিনি কি সত্যিই ক্যান্সারের কারণ? যা বলছে বিজ্ঞান ছবির ক্যাপশন:

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো—চিনি কি ক্যান্সারের কারণ? অনেক ভিডিও ও পোস্টে দাবি করা হয়, চিনি খেলেই ক্যান্সার কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায় কিংবা চিনি বাদ দিলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান এই দাবিগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

গুরুগ্রামের সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানির মতে, চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে—এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং সেগুলো দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞের ভাষ্য অনুযায়ী, চকোলেট, কেক বা অন্যান্য চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে একজন মানুষের ক্যান্সার হবেই। ক্যান্সার একটি জটিল রোগ, যার পেছনে জিনগত, পরিবেশগত, জীবনযাপন ও অন্যান্য নানা কারণ ভূমিকা রাখে। শুধু চিনি খাওয়াকে এর একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

চিনি বা গ্লুকোজ মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। শরীরের প্রতিটি জীবন্ত কোষ শক্তি উৎপাদনের জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। বিশেষ করে মস্তিষ্ক, কিডনি এবং অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল।

অনেক সময় ক্যান্সার নির্ণয়ে ব্যবহৃত PET স্ক্যানে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশে বেশি গ্লুকোজ ব্যবহারের বিষয়টি দেখা যায়। এই তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা করে কেউ কেউ দাবি করেন, ক্যান্সার কোষ শুধু চিনি খেয়েই বেঁচে থাকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ক্যান্সার কোষ দ্রুত বিভাজিত হওয়ায় তাদের শক্তির চাহিদাও বেশি থাকে। এর অর্থ এই নয় যে চিনি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়ে যাবে।

বরং দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রয়োজনীয় উপবাস বা সম্পূর্ণভাবে চিনি বাদ দেওয়ার ফলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশি ভাঙতে শুরু করতে পারে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত চিনি খাওয়া নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব শারীরিক অবস্থা ভবিষ্যতে কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অর্থাৎ, ঝুঁকির কারণ অতিরিক্ত চিনি থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যা, চিনি নিজে নয়।

সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। ফলমূল, শাকসবজি, দানাশস্য, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত পরিমাণে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। কোনো একটি খাবারকে সম্পূর্ণভাবে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, ইন্টারনেটে প্রচারিত স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আত্মগোপনে থাকা সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার করল ডিবি পুলিশ

আত্মগোপনে থাকা সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার করল ডিবি পুলিশ