কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার প্রথম এক মাসের মধ্যেই ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
আফ্রিকা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮৯৪টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তবে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা ৩৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
প্রাদুর্ভাবটি বর্তমানে পূর্ব কঙ্গোর ৩২টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইতুরি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও রোগটি বিস্তার লাভ করেছে। সীমান্ত অতিক্রম করে এটি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও পৌঁছে গেছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১৯টি সংক্রমণ ও অন্তত দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
আফ্রিকা সিডিসির চিকিৎসা মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়েসাম মানকৌলা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বান্দিবুগিও’ নামের বিরল ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে কঙ্গোতে আগের প্রাদুর্ভাবগুলো ‘জায়ের’ ভাইরাস দ্বারা ঘটেছিল, যার জন্য কার্যকর টিকা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংক্রমণ শনাক্তে দেরি, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্গম এলাকা এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইতুরি প্রদেশে সংঘাতের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না, ফলে সংক্রমণের শৃঙ্খল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক