আনোয়ারায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আনোয়ারায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
আনোয়ারায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের ছবির ক্যাপশন:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রবিবার (১০ মে) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির নিজ শয়নকক্ষ থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

নিহত হালিমা আক্তার মুন্নি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সির বাড়ির বাসিন্দা মো. ইসহাক এর মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী মিজানুর রহমান পশ্চিম বরৈয়া এলাকার কালু মাঝির বাড়ির নবী হোসেন এর ছেলে।

ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এতে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে হালিমার বাবা মো. ইসহাক বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেছেন, মরদেহের পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ ও মীমাংসাও হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মো. বাশার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন উপস্থিত থাকলেও শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আত্মহত্যা নাকি হত্যা—তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং পরিবারের অভিযোগের কারণে ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, প্রশাসনের শান্ত থাকার আহ্বান

ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, প্রশাসনের শান্ত থাকার আহ্বান