নাটোরে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগের দাবি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করতে গিয়ে রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, “নাটোর আমার শ্বশুরবাড়ি, এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে।” তার এ বক্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার নাটোরে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে মন্ত্রী নাটোরের সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হালকা রসিকতা করেন। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে এবং নাটোরে তাকে ‘নাটোরের জামাই’ বলেও ডাকা হয়।
রসিকতার পাশাপাশি মন্ত্রী নাটোরে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার এবং গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন গ্যাস মজুত পাওয়া গেলে নাটোরে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল, তবে পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তার মতে, প্রকল্পটি চালু থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ অনেক আগেই গ্যাস সুবিধা পেতে পারতেন।
জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য স্থলভাগ এবং সমুদ্র উভয় এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান এবং নতুন কূপ খননের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাপেক্সের বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত রিগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে সম্পূরক প্রশ্নে নাটোরের সংসদ সদস্য আবারও জানতে চান, ঠিক কবে নাগাদ নাটোরে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখন অনেকটা ‘শ্বশুরবাড়ির আবদার’-এর মতো হয়ে গেছে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন মজুত আবিষ্কারের ওপরই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ভর করছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে নোয়াখালীর একজন সংসদ সদস্য রসিকতা করে বলেন, যদি শ্বশুরবাড়ির কারণে নাটোর অগ্রাধিকার পায়, তাহলে নোয়াখালীতেও মন্ত্রীর বিয়ে করা উচিত। এ সময় স্পিকারও হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন। জবাবে মন্ত্রী হালকা মেজাজে উত্তর দিলে সংসদ কক্ষে আবারও হাসির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সংসদে রসিকতা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সামনে এলেও মূল বার্তা ছিল দেশের জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ। সরকার নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক