বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রথমবারের মতো ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রচলিত বাজারমূল্যে দেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলারের সমান। এক বছর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়ে ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। আগের অর্থবছরে এটি ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার এবং তার আগের বছর ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। ফলে দুই বছরে মাথাপিছু আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ প্রবৃদ্ধি (জিডিপি গ্রোথ) দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। যদিও কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কিছু স্থবিরতা থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক সম্প্রসারণ ইতিবাচক দিক নির্দেশ করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি ও আকার বৃদ্ধি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক