রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rangamati Science and Technology University) উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে কাউকে ইচ্ছেমতো রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া বা দোষারোপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।
রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, “ইচ্ছে করলেই কাউকে জামায়াত, বিএনপি বা বট—এভাবে ট্যাগিং দেওয়া ঠিক নয়। এসব রাজনৈতিক লেবেলিংয়ের কারণে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু কিছুদিন আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে দাবি জানিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দেন। তবে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশাসনকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি বা প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, যারা ভুল পথে গেছে, তাদের বুঝিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, কাউকে বহিষ্কার করার একক ক্ষমতা তার নেই। রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই নিয়ম অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, স্বল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ছাত্রাবাস উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চলছে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রায় এক বছর ১০ মাসে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। তবে এর ফলে কিছু মহল অসন্তুষ্ট হয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজনমূলক রাজনীতি ও ট্যাগিং সংস্কৃতি বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক লেবেলিং বা ট্যাগিং একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটি শিক্ষার পরিবেশে প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, রাবিপ্রবি উপাচার্যের এই মন্তব্য শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক ট্যাগিং সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে এবং এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক