বর্তমান সময়ে একাধিক বিয়ের বিষয়টি নিয়ে সমাজে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ এটিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেন, আবার কেউ সম্পূর্ণ অমানবিক হিসেবে বিবেচনা করেন। অথচ ইসলাম এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।
ইসলামে শর্ত সাপেক্ষে একাধিক বিয়ে জায়েজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজন পর্যন্ত বিয়ে করতে পারো। তবে যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনেই সীমাবদ্ধ থাকো (সুরা নিসা, আয়াত ৩)।
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একাধিক বিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত নয়; বরং এটি প্রয়োজন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে অনুমোদিত একটি ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদল’ বা ন্যায়বিচার।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখা অপরিহার্য। মহানবী Prophet Muhammad (সা.) নিজ জীবনে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বজায় রাখতেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাঁর সাধ্যের বাইরে কোনো বিষয়ে দায়ী না হন।
একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোতে ইনসাফ বজায় রাখা জরুরি তা হলো—
প্রথমত, ভরণপোষণে সমতা। প্রত্যেক স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় ব্যয় যথাসম্ভব সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সময় বণ্টনে ন্যায়বিচার। স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থান ও সময় কাটানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। মহানবী (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে পালাক্রমে সময় বণ্টন করতেন।
তৃতীয়ত, আচরণ ও ব্যবহারে ভারসাম্য। একজনের সামনে অন্যজনকে অপমান করা বা অবহেলা করা গুরুতর অন্যায়। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে বিকলাঙ্গ অবস্থায় উপস্থিত হবে।
তবে ইসলাম স্বীকার করে যে কিছু বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেসব ক্ষেত্রে আল্লাহ ক্ষমাশীল। কিন্তু যেসব বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ইনসাফ বজায় রাখা অবশ্যই জরুরি।
এছাড়া ব্যক্তির অবস্থা ও সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একাধিক বিয়ের বিধান ভিন্ন হতে পারে। কারো জন্য এটি মুস্তাহাব, কারো জন্য মুবাহ, আবার কারো জন্য মাকরুহ বা হারামও হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও তা কঠোর দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও সামাজিক কল্যাণের শর্তে সীমাবদ্ধ। এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয় এবং অপব্যবহার করার সুযোগও নেই। বরং ইসলাম ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করেছে।