দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম কমানো হয়েছে, যা রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার নতুন করে স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে বেশিরভাগ রিংয়ের দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) Directorate General of Drug Administration (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর)-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন মূল্য তালিকা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারকদের যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করেই এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগ স্টেন্টের দাম ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে Health Services Division এবং Ministry of Health and Family Welfare-এর গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য সংশোধনের ফলে হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমবে এবং সেবার সুযোগ আরও বাড়বে।
এছাড়া নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—স্টেন্টের হালনাগাদ মূল্য তালিকা হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা, নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি নিশ্চিত করা, রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো প্রদান করা এবং ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট রোগীকে দেওয়া।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে স্টেন্ট সরবরাহ এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন প্রায় ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্ট রয়েছে। এই মূল্য কাঠামো রোগীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ কমে যায়।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ স্টেন্ট বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সাধারণত ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পণ্য আসে। এর মধ্যে United States, Germany, Switzerland, France, Italy, Spain, Netherlands এবং Ireland উল্লেখযোগ্য। এছাড়া Japan, South Korea ও India থেকেও স্টেন্ট আমদানি করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের রোগীরা এর ফলে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবেন।
সব মিলিয়ে, হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা যায়।
কসমিক ডেস্ক