বর্ষার আগে ঢাকায় ১৪১ জলাবদ্ধতা হটস্পট চিহ্নিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বর্ষার আগে ঢাকায় ১৪১ জলাবদ্ধতা হটস্পট চিহ্নিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
বর্ষার আগে ঢাকায় ১৪১ জলাবদ্ধতা হটস্পট চিহ্নিত ছবির ক্যাপশন:

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথভাবে রাজধানীর ১৪১টি এলাকাকে জলাবদ্ধতার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় রয়েছে ১০৮টি এবং ডিএসসিসি এলাকায় রয়েছে ৩৩টি স্পট।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কিংবা অস্থায়ী পাম্প বসিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা মনে করছেন, খাল সংযোগ পুনরুদ্ধার, দখলমুক্তকরণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা আরও প্রকট হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন বলেন, ঢাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ড্রেনেজ খালের সঙ্গে মূল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ না থাকা। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারে না এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, অনেক পুনরুদ্ধার করা খাল ও পানি প্রবাহ পথ আবারও দখল হয়ে গেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাশয় ভরাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, ৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, খাল ও নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দ্রুতই সেগুলো আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে নগরজুড়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশন আলাদা আলাদাভাবে কাজ করলেও রাজধানীর জন্য একটি সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নর্দমায় ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

ডিএসসিসির সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় ৩৩টি হটস্পট এলাকায় জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে। নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, বকশীবাজার, ফকিরাপুল ও রাজারবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী পাম্পের সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে আটটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিউ মার্কেট ও মিরপুর রোড এলাকায় পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ বিডিআর এলাকার একটি আউটলেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট ও বকশীবাজার এলাকার ড্রেনেজ সংযোগ উন্নয়নে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, উত্তর সিটি বর্তমানে ২৯টি খালের তত্ত্বাবধান করছে। এর মধ্যে মিরপুর ও আশপাশের পাঁচটি খালকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও পরিষ্কার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কল্যাণপুর, টোলারবাগ, বাউনিয়া ও রামচন্দ্রপুর খালে খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে ভারী বৃষ্টির পর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পানি সরিয়ে ফেলা।

তবে আশকোনা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকায় এখনো তীব্র জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এসব এলাকায় অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ নেই এবং খাল দখল ও জলাভূমি ভরাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বর্ষা মৌসুমে জরুরি ব্যবস্থা নয়, সারা বছর পরিকল্পিতভাবে খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আনতে পারলেই জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে পারে ঢাকা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আনসারদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্

আনসারদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্