আজ বিশ্ব মা দিবস, পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আজ বিশ্ব মা দিবস, পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
আজ বিশ্ব মা দিবস, পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ছবির ক্যাপশন:

এই পৃথিবীতে সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ‘মা’। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে যিনি নিজের সুখ, স্বপ্ন, আরাম—সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন, তিনিই মা। জন্মের পর প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা, প্রথম ভাষা এবং প্রথম ভালোবাসার অনুভূতি আসে মায়ের কাছ থেকেই। তাই পৃথিবীর সব সংস্কৃতি, ধর্ম ও সভ্যতায় মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার বিশ্ব মা দিবস। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও নানা আয়োজন, শুভেচ্ছা বার্তা এবং পারিবারিক উদযাপনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।

মা দিবস শুধু আবেগ বা ভালোবাসার দিন নয়, এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও ইতিহাস। উনিশ শতকের আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্য, শিশু পরিচর্যা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হো এবং অ্যান রিভস জার্ভিস। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত সমাজে পরিবার ও মানবিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনে তারা কাজ করেছিলেন।

১৮৭০ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড হো শান্তি ও মানবতার পক্ষে “মাদারস ডে প্রোক্লেমেশন” প্রকাশ করেন। একই সময়ে অ্যান রিভস জার্ভিস নারীদের সংগঠিত করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। পরে তার মেয়ে আনা জার্ভিস মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন।

১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের সেন্ট অ্যান্ড্রুস মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সাদা কার্নেশন ফুল, যা ছিল আনা জার্ভিসের মায়ের প্রিয় ফুল।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দিনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই দিনটিকে নিজেদের সংস্কৃতি অনুযায়ী গ্রহণ করে।

বর্তমান সময়ে মা দিবস বিশ্বজুড়ে আবেগ ও ভালোবাসার একটি বিশেষ উপলক্ষ। তবে সমাজে মায়ের ভূমিকা এখন আর শুধু সন্তান লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক সমাজে একজন মা একই সঙ্গে একজন কর্মজীবী নারী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি।

পরিবারের সুখ-দুঃখ, সন্তানদের শিক্ষা, মানসিক শক্তি ও মূল্যবোধ গঠনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। একজন মা তার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস পরিশ্রম করেন। অনেক সময় নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে কাজ করেন। তাই মায়ের অবদান কোনো নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ নয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। ইসলাম ধর্মে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত বলা হয়েছে। অন্য ধর্মগুলোতেও মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

বিশ্ব মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মায়ের সঙ্গে স্মৃতি, ছবি ও অনুভূতি শেয়ার করছেন। কেউ উপহার দিয়ে, কেউ সময় কাটিয়ে, আবার কেউ দূরে থেকেও ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনই মায়ের প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। কারণ মায়ের ত্যাগ, স্নেহ ও অবদান কোনো কিছুর বিনিময়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এক দিনের দায়িত্ব পাঁচ বছরের শান্তি বয়ে আনতে পারে: আসিফ মাহমু

এক দিনের দায়িত্ব পাঁচ বছরের শান্তি বয়ে আনতে পারে: আসিফ মাহমু