পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিমদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান এবং ঈদের তাৎপর্য, জাতীয় প্রেক্ষাপট, মানবিক দায়িত্ব ও সামাজিক সংহতির নানা দিক তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতারও প্রতিফলন দেখা যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, সংযম, ক্ষমা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। রমজানের শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঈদের উৎসব সেই চেতনাকেই আরও বিস্তৃত করে, যেখানে ধনী-গরিব, ছোট-বড়, দল-মত নির্বিশেষে সবাই একাত্মতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, ঈদ এমন একটি উপলক্ষ যা সমাজের নানা বিভাজন ও ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে মানুষের মধ্যে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়ে এনে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করাই এই উৎসবের অন্যতম শিক্ষা। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, ঈদ হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয় এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তিগত ভোগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামষ্টিক মানবিক ও নৈতিক চর্চারও নাম।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এবারকার ঈদ দেশের মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি এটিকে ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং অতীতের দমন-পীড়নের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিপীড়ন এবং নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে এবারের ঈদ একটি নতুন বাস্তবতায় উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে মানুষের মনে তুলনামূলকভাবে স্বস্তি, স্বাধীনতা এবং নতুন প্রত্যাশা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মানুষ আজ অপেক্ষাকৃত মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে। এই আত্মত্যাগকে কেবল স্মরণ করলেই চলবে না, বরং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়াও সবার নৈতিক দায়িত্ব। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক সংগ্রামের মানবিক মূল্যকে সামনে আনে এবং সমাজকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায়। যারা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করাকে তিনি ঈদের চেতনার অংশ হিসেবেই দেখিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গও তার বার্তায় বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, অসংখ্য বাংলাদেশি পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের এই ত্যাগ, শ্রম এবং প্রবাসজীবনের কষ্টকে যথাযথ সম্মান জানানো প্রয়োজন। ঈদের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা এসব মানুষ মানসিকভাবে আরও বেশি কষ্ট অনুভব করেন। তাই তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। এই মন্তব্যে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও স্পষ্ট হয়।
একই সঙ্গে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঈদের দিন কেবল নিজের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; যাদের সামর্থ্য নেই, যাদের ঘরে উৎসবের আয়োজন নেই, তাদের মুখেও হাসি ফোটানোর দায়িত্ব সমাজের সচ্ছল মানুষের। এটি শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের সবাই সেই আনন্দে অংশ নিতে পারে।
ঈদুল ফিতর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এর মূল শিক্ষা হচ্ছে সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা, দানশীলতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। নাহিদ ইসলামের বার্তায়ও সেই মূল চেতনাগুলোর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে ঈদের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই উৎসব বিভেদ নয়, ঐক্যের; বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসার; অবহেলা নয়, দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
সব মিলিয়ে, মো. নাহিদ ইসলামের ঈদ শুভেচ্ছা বার্তাটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা, শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি দায়িত্ব, প্রবাসীদের অবদান এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক আহ্বান—সবকিছুই একসঙ্গে উঠে এসেছে। ফলে তার এই বার্তা ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছার পাশাপাশি একটি সামাজিক ও নৈতিক দিকনির্দেশনাও বহন করে।
কসমিক ডেস্ক