গাইবান্ধায় তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘কর্মসংস্থান মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার গাইবান্ধার স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে এই মেলার আয়োজন করে এসকেএস ফাউন্ডেশন, যা রিকোভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর অ্যামপ্লয়মেন্ট (আরএআইএসই) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়।
দিনভর চলা এই কর্মসংস্থান মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ছিল উৎসবমুখর। তরুণদের মধ্যে চাকরি পাওয়ার আশায় দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
মেলার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খোকন কুমার কুন্ড।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অধ্যক্ষ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি।
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরএআইএসই প্রকল্পের আওতায় মোট ১২টি ট্রেডে ৮৬৫ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে ২১৯ জন সরাসরি স্বকর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশের স্বনামধন্য ১৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করেন।
মেলায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, এমন আয়োজন তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। আগে চাকরির জন্য বিভিন্ন অফিসে ঘুরতে হলেও এখন এক জায়গায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় করছে।
আয়োজকরা বলেন, এই ধরনের কর্মসংস্থান মেলা তরুণদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও জেলা পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হবে, যাতে বেশি সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পান এবং দেশের মানবসম্পদ আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং চাকরির সুযোগ একসঙ্গে যুক্ত হলে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। গাইবান্ধার এই মেলা সেই দিকেই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক