উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা TMSS। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠান এবার থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ক্লিনিক চালু করেছে।
শনিবার (৯ মে) বগুড়ার ঠেঙ্গামারায় TMSS Cancer Center-এর ১১তম তলায় উদ্বোধন করা হয় TMSS Thalassemia Clinic। উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা, র্যালি এবং দিনব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তজনিত রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত পরীক্ষা না করার কারণে বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বিএমটি সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান ডা. Khaja Amirul Islam বলেন, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ রোগীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টিএমএসএসের উপ-নির্বাহী পরিচালক রোটা. ডা. Md. Matiur Rahman বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য এই বিশেষায়িত ক্লিনিক সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই ক্লিনিকে আরও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা ও উন্নত ল্যাবরেটরি সেবা যুক্ত করা হবে। রোগীদের জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ, নিয়মিত ফলোআপ এবং কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি রোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক সহায়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টিএমএসএস পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা Ayesha Begum, নির্বাহী কর্মকর্তা Gautam Kumar, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. Md. Zakir Hossainসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, শিক্ষক, সমাজসেবক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগ মোকাবেলায় শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে টিএমএসএস ইতোমধ্যে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার হার্ট সেন্টার এবং ২৫০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় তিনটি মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক