ঢাকার দোহার উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সালাম শিকদার ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে তখন পরিবারের পাঁচজন সদস্য অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
নিহতদের দুই মেয়ে জান্নাতুল ও খাদিজা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে যায় এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে দম্পতি নিজেদের শেষ শক্তি দিয়ে জানালা ভেঙে দুই মেয়ে ও এক নাতিকে বাইরে বের করে দেন। তাদের এই সাহসিকতায় পরিবারের তিন সদস্য প্রাণে বেঁচে যান।
তবে নিজেরা বাইরে বের হতে পারেননি সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম। আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দোহার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের ভেতর থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার থানার পুলিশ। থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাদের এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে সন্তানদের চোখের সামনে এমন ভয়াবহ ঘটনা এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট বা রান্নাঘর থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে সঠিক কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ও সতর্কতার গুরুত্ব। বিশেষ করে ঘরবাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে ছোট একটি দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে দোহার উপজেলার এই অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের ছায়া, যা স্থানীয়দের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।
কসমিক ডেস্ক