Singapore সরকার স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঠেকাতে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাতের অনুমতি থাকবে। একই সঙ্গে অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিংকেও এই নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী Desmond Lee মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণ সংশোধনের জন্য অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে কেবল গুরুতর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলে বুলিং প্রতিরোধে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ২০২৭ সাল থেকে দেশটির সব স্কুলে এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হবে। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের অনুমোদনের পর অনুমোদিত শিক্ষকরা এই শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর বয়স, মানসিক পরিপক্বতা এবং তার আচরণ সংশোধনের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীকে অপমান করা নয়, বরং তাকে ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।
ডেসমন্ড লি দাবি করেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, “স্পষ্ট সীমারেখা ও অর্থবহ শাস্তি” শিশু-কিশোরদের আচরণ সংশোধনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং বুলিং কমাতেও সহায়ক হয়।
তবে এই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং এর বেশি বয়সী ছেলেরা এই নীতির আওতায় পড়বে।
অন্যদিকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতের অনুমতি নেই। দেশটির ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মেয়েদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া নিষিদ্ধ।
নতুন নীতিমালায় শুধু সরাসরি বুলিং নয়, সাইবার বুলিং বা অনলাইনে অপমান, হুমকি ও হয়রানিকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বুলিং বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
তবে বিশ্বজুড়ে শিশু অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা শারীরিক শাস্তির বিরোধিতা করে আসছেন। World Health Organization ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে জানায়, স্কুলে শারীরিক শাস্তি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ ধরনের শাস্তি শিক্ষার পরিবেশে ভয় ও চাপ তৈরি করতে পারে এবং শিশুর সামাজিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিঙ্গাপুর অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর আইন প্রয়োগের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি এক ফরাসি কিশোরের বিরুদ্ধে একটি জুস ভেন্ডিং মেশিনের স্ট্র চেটে সেটি আবার মেশিনে রেখে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া ১৯৯৩ সালে মার্কিন কিশোর Michael Fay-এর ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। গাড়িতে স্প্রে পেইন্ট করার দায়ে তাকে কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শাস্তি কিছুটা কমানো হলেও সিঙ্গাপুর সরকার তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখে।
সব মিলিয়ে, স্কুলে বুলিং প্রতিরোধে সিঙ্গাপুরের নতুন নীতিমালা বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ এটিকে শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে শিশুদের মানবাধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
কসমিক ডেস্ক