উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে Bangladesh Energy Regulatory Commission (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংস্থাটি নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২২ টাকা কমানো হয়েছে।
ঘোষিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা কমানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জ্বালানির মূল্য ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে দেশের বিমান পরিবহন খাতে পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে তিন দফায় জেট ফুয়েলের দাম মোট ১৩২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্যের কারণে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোতে ব্যয়ের চাপ বেশি অনুভূত হচ্ছিল।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের দাম কমানোর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে। কারণ বিমান পরিচালনার অন্যতম বড় ব্যয় হচ্ছে জ্বালানি খরচ। ফলে জ্বালানির মূল্য হ্রাস অপারেশনাল ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে যাত্রী ভাড়ার ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানির দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, ডলার বিনিময় হার এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও ভাড়া নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিমান খাতে জেট ফুয়েলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ওঠানামার প্রভাব দেশের জেট ফুয়েলের মূল্যেও পড়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসায় এ মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যয় কমলে এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক চাপ কমবে এবং সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
এদিকে বিমান যাত্রীদের একাংশ আশা করছেন, জেট ফুয়েলের মূল্য কমানোর ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে, টানা মূল্যবৃদ্ধির পর জেট ফুয়েলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত বিমান পরিবহন খাতে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব প্রভাব আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক