কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মো. ওবাইদুল (প্রায় ৪০), তিনি ওই গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার দুপুরেও ওবাইদুল নিজ জমিতে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ঝড়ো বাতাসসহ বজ্রবৃষ্টি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির সময়ও তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। এক পর্যায়ে আকস্মিকভাবে বজ্রপাত সরাসরি তার শরীরে আঘাত হানে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কৃষিকাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং প্রতিদিনের মতোই সেদিনও ধান কাটতে গিয়েছিলেন।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান জানান, তারা ঘটনার খবর পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠে কাজ করার সময় কৃষকেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। মাঠে কাজ করা কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই এ অঞ্চলে এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা মানেন না।
এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, কৃষকদের জন্য বজ্রপাত সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার।
সব মিলিয়ে, এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন মাঠে কাজ করা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষকেরা।
কসমিক ডেস্ক