পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দায়ের করা তিনটি মামলায় মোট ২৬২ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ সম্প্রতি সংঘর্ষে রূপ নেয়, যার ফলে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
প্রথম মামলাটি করেন হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ। এই মামলায় জাকারিয়া পিন্টু, তার তিন ভাই এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাসহ মোট ১১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সোনা মণি।
অন্যদিকে, জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা করেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এলবাস হোসেন। এই মামলায় হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের ১২৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, তার তিন ভাই, মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম ভিপি শাহিন এবং রানা ফকিরের নাম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঈশ্বরদী থানার এসআই আতাউল ইসলাম পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় বিএনপির উভয় গ্রুপের ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার তিনটি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের নেতাদের বক্তব্যেও রয়েছে স্পষ্ট বিভক্তি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব দাবি করেছেন, জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইয়েরা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তার মতে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনারও সুযোগ নেই।
অন্যদিকে জাকারিয়া পিন্টু এই অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলে বহিষ্কার হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা এবং এতে দলের ভেতরে তার অবস্থান দুর্বল হয়নি। বরং তার দাবি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনও তার সঙ্গে রয়েছেন এবং তাদের নিয়েই তিনি দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে পাবনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিভক্তি দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এমন সংঘর্ষ ও আইনি জটিলতা স্থানীয় রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।