কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদন বাড়াতে পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি শুরু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদন বাড়াতে পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 6, 2026 ইং
কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদন বাড়াতে পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি শুরু ছবির ক্যাপশন:

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের সহায়তা দিতে কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় পোনা অবমুক্ত ও ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে রামগড় বিএফডিসি ঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেবলয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র এবং বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন-এর চেয়ারম্যান ইমাম উদ্দিন কবির।

অনুষ্ঠানে জেলেরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমানে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় যে ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়, তা বাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জেলার মতো ৪০ কেজি করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে আয় বন্ধ থাকায় সুদমুক্ত ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীরাও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তারা হ্রদে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে কোস্ট গার্ডের কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানান। পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের মাছ বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই হ্রদ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ভাণ্ডার এবং এর উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আগামী তিন মাস হ্রদে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময় মাছ ডিম ছাড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধি করে। তাই জেলেদের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

হ্রদের পরিবেশ রক্ষা নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদকে দূষণমুক্ত রাখতে হলে স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়লে হ্রদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এছাড়া তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে কৃষক ও জেলেদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। এই কার্ডের আওতায় জেলেরা সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবেন। কৃষক কার্ডের মতোই এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ মাছের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান তাদের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির। তবে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা আরও বেশি উপকৃত হবেন।

সব মিলিয়ে, কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পুলিশ-গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বক্তব্য, জামালপুরে নির্বাচন ঘিরে উত

পুলিশ-গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বক্তব্য, জামালপুরে নির্বাচন ঘিরে উত