নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আলীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন সময় হঠাৎ করেই ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সিলিং ফ্যান খুলে নিচে পড়ে যায়। যদিও ফ্যানটি সরাসরি কোনো শিক্ষার্থীর মাথায় না পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবুও পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী এতে আহত হয়।
আহতদের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী—প্রাঞ্জল ও জাহানারা—এর নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর বলে জানিয়েছেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মশিউর রেজা সজীব। তিনি জানান, “হঠাৎ করে ফ্যানটা খুলে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত বড় কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, তবে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।”
এছাড়া, ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি আবু জাফর বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষকের আমন্ত্রণে স্কুলে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার ভাষায়, “একজন শিক্ষার্থী খুব অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্কুল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই ফ্যানটি খুলে পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরেই নতুন ভবনের জন্য আবেদন করে আসছি। বর্তমান ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এই ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি উদাহরণ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে তিনি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
তারা বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, বিদ্যমান ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক