২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যা মামলায় কিছু সাংবাদিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়েই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার সময় তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যেসব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের কারো কারো ভূমিকা বা অভিযোগিত অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা “হত্যার চেয়েও বেশি” বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব মামলা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগে করা হয়েছে। তবে প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও জটিল এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে যেসব ব্যক্তি আটক রয়েছেন তারা মূলত হত্যা মামলার আওতায় আছেন, গণহত্যার মামলায় সরাসরি আটক নেই বলে তার দাবি। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা জরুরি।
ডা. জাহেদ উর রহমান তার বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন দেশে যেমন নুরেমবার্গ ট্রায়াল, টোকিও ট্রায়াল বা রুয়ান্ডা গণহত্যার পর বিচার হয়েছে, সেখানে শুধু সরাসরি অপরাধী নয়, বরং যেসব ব্যক্তি নীতিগত বা ন্যারেটিভ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
তার মতে, সাংবাদিক বা অন্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকলেও তা যাচাই করা প্রয়োজন এবং সব ক্ষেত্রে একভাবে বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি এসব মামলার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত করার পদ্ধতিকে তিনি ভুল হিসেবে মনে করেন।
তবে তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গে প্রশাসনিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি মামলার চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য বিচারাধীন বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সচিবালয়ের এই সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক