দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। Bangladesh Jewellers Association (বাজুস)-এর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই দুই ধাতু।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে বাজুস স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর নির্ধারণ করে, যা সেদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, দেশে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
এর আগে ৮ এপ্রিল স্বর্ণের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক লাফে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই দাম আবার কিছুটা কমানো হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
শুধু স্বর্ণ নয়, একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম ঘন ঘন পরিবর্তিত হচ্ছে। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমেছে।
অন্যদিকে, রুপার দামও কমবেশি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার দাম বেড়েছে এবং ১৫ বার কমানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ ও রুপা শুধু অলংকার নয়, বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই এই দুই ধাতুর দামের ওঠানামা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো বেশ উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে যারা নতুন করে স্বর্ণ কিনতে চান, তারা বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয় বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনলেও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে আবারও দামের পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক