দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission (ACC)) দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই আদেশ দেন।
বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালতে এদিন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মিলনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, তিনি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ গঠনে সহায়তা করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শাহজাদী আলম লিপি তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ২৬ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্যও উঠে এসেছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে তা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস গোপন করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি এই অভিযোগে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই আদালতে চার্জ গঠন করা হয়।
হামিদুল আলম মিলন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতির আদেশে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
দুদকের বিশেষ পিপি আনোয়ার হোসেন জানান, আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বগুড়া কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, আদালতের নির্দেশের পরপরই সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে আরও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক