কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন গঙ্গাচড়ার কৃষকরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন গঙ্গাচড়ার কৃষকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন গঙ্গাচড়ার কৃষকরা ছবির ক্যাপশন:

টানা বৃষ্টি ও নদীর পানির বৃদ্ধি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষকদের জীবনে বড় সংকট তৈরি করেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের পানি দ্রুত বেড়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আর দুই দিন বৃষ্টি হইলে সব তলাইয়া যাইবো।” তার মতে, আরও কিছুদিন সময় পেলে ধান পুরোপুরি পেকে ভালোভাবে ঘরে তোলা যেত।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখন অনেক ক্ষেতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে পানির ভেতরেই ধান কাটছেন, যাতে অন্তত কিছু অংশ রক্ষা করা যায়।

Gangachara Upazila-এর বিভিন্ন এলাকায় এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। কোলকোন্দ, মর্ণেয়া, গঙ্গাচড়া, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা, বড়বিল এবং আলমবিদির ইউনিয়নের বহু জমি পানিতে ডুবে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় মোট ১১ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে বড় একটি অংশ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। এতে কাজের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় অপরিপক্ব ধানও কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, পানির কারণে সময়মতো ধান পাকা অবস্থায় কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কম পরিপক্ব ধানই কেটে নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি পানিতে কাজ করায় শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তিনি আরও বলেন, “ঠিকমতো ঘরে তুলতে না পারলে বড় লোকসান হবে।”

অন্যদিকে কৃষক মজিবর রহমান জানান, বাধ্য হয়ে তারা পানির মধ্যেই ধান কাটছেন। তিনি বলেন, “না কাটলে সব নষ্ট হইয়া যাইবো।” তার মতে, এমন পরিস্থিতি কৃষকের জন্য খুবই কষ্টকর এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোতে পানি জমে গেছে। তবে এখন আবহাওয়া কিছুটা ভালো হচ্ছে, ফলে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সব মিলিয়ে, গঙ্গাচড়ার কৃষকদের এখন একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির ভেতরেই ফসল কাটতে বাধ্য হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা এবার সংসদে

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা এবার সংসদে