রাউজানে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাউজানে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 13, 2026 ইং
রাউজানে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন ছবির ক্যাপশন:

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে কাপ্তাই সড়কের মাইজ্জামিয়ার ঘাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চালকের নাম মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মীরধারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার পর যাত্রীসহ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নোয়াপাড়া-পথেরহাট সড়কের দিকে যাচ্ছিল। পথে মাইজ্জামিয়ার ঘাটা এলাকায় পৌঁছালে কাপ্তাই দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালক নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ সময় অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে নেমে আসে এবং কিছু সময়ের জন্য কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাসটি আংশিক পুড়ে যায় এবং ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভানো এবং সড়ক থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটক করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাপ্তাই সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে, যার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় থাকে। তারা এই সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে, রাউজানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লেবানন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লেবানন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি