হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই মিশনে অংশ নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিউল বলছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং একাধিক দিক বিবেচনা করেই তারা এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সবকিছু বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে।
সরকার আরও জানায়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে জাতীয় সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে ইরানের ছোড়া অস্ত্র আঘাত করেছে। তবে সিউল এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানিয়েছে, একটি জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ইঞ্জিন রুমের বাম পাশে আগুন লাগে। কিন্তু এর কারণ এখনো তদন্তাধীন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন পথ—সেখানে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই সতর্ক অবস্থান মূলত কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীলতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন সিউলের মূল চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই ধরনের সংকটে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনি দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কসমিক ডেস্ক