দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। ৩০ এপ্রিল সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৮৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৮৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা গ্রহণ করেনি বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাসপাতালে বর্তমানে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যেখানে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের লক্ষণ সাধারণত জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগে রূপ নিতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদান এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলেও অনেক এলাকায় এখনো টিকা গ্রহণের হার সম্পূর্ণ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে যাতে তারা শিশুদের সময়মতো টিকা দেন এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমেও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে, ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হামের এই পরিস্থিতি দেশের শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক