কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-১১ এর পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা, গাঁজা ও মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু সোমবার (৪ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, গত ৩ মে রাতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার চকবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মো. সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া (৫০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে এক হাজার ৯৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে পৃথক আরেক অভিযানে কোতয়ালী মডেল থানার ফৌজদারী ও কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি মামলার দুই আসামি—মো. শফিউল বাশার ওরফে সবুজ (২৯) এবং শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক (২৭)—কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া বুড়িচং থানার নিমসার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামি টিপু (৩২)কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ৪ মে রাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার উত্তর রামপুর এলাকায় আরেকটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে মো. সোহেল শেখ (৩৯), মো. হাসানুর রহমান শেখ (৩৭), মো. আফজাল হোসেন (৪৮) এবং মো. রাহুল শেখ (২১) নামে চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩০ কেজি গাঁজা, ২ বোতল বিদেশি মদ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও মদ সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করে আসছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
র্যাব আরও জানায়, দেশে মাদকের বিস্তার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এসব অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক কারবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে তারা চান, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হোক যাতে স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লায় র্যাবের এই ধারাবাহিক অভিযানে একদিকে যেমন মাদক চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক