বিশ্বের জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ওপেক প্লাসের জরুরি বৈঠককে ঘিরে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো সংগঠনটি নতুন কোটা নির্ধারণে আলোচনায় বসছে।
রোববার (৩ মে) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেক প্লাসের সাতটি সদস্য দেশ আজ জরুরি বৈঠকে বসছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ও উৎপাদন কোটা পুনর্বিন্যাস করা।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈঠকে প্রতিদিন প্রায় ১,৮৮,০০০ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৬০ বছর ধরে ওপেকের সদস্য থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়। দেশটি বলছে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কৌশল বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই-এর এই সিদ্ধান্ত ওপেকের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও তেল বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের দামে প্রভাব ফেলে।
ওপেক, যা ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, বিশ্ব তেল বাজারে অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এই জোট বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। ওপেক প্লাসে রাশিয়াসহ অন্যান্য বড় তেল উৎপাদনকারী দেশও অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান বৈঠককে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি শুধু উৎপাদন কোটা নয়, বরং ওপেক প্লাসের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের দিকেও ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের প্রভাবকে জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে ওপেক প্লাসের এই জরুরি বৈঠক শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক