রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্রদল কর্মী আশিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এই মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তদন্তে আরও যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ফেরদৌস জামান জানিয়েছেন, মোট ১২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে তদন্তে ১২৭ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার মূল ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়ূর ভিলা সংলগ্ন এলাকায়। সেদিন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল কর্মী আশিক, যিনি পরে রাস্তায় পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে ‘মৃত ভেবে’ ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আশিক নিজে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি আন্দোলন দমন করতে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা একত্রে ষড়যন্ত্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন, যারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
এই মামলাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এতে দেশের সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম যুক্ত হয়েছে এবং এটি জুলাই মাসের গণআন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে। আদালতই পরবর্তীতে নির্ধারণ করবে কারা দোষী এবং কারা নির্দোষ।
অন্যদিকে, মামলার বাদী আশিকের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে, মোহাম্মদপুরের এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাচেষ্টা মামলা নয়, বরং এটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক