৪৯৮টি প্রস্তাবের বিস্তৃত এজেন্ডা নিয়ে দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে। চার দিনের এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এবারের সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের দেওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব থেকে বাছাই করে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্মেলনে ৩০টি অধিবেশনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন ডিসিরা। পাশাপাশি তারা মো. সাহাবুদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের কার্যক্রমের সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা। সম্মেলনের সময় এক দিন বাড়ানো হয়েছে যাতে আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হয়।
ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের সম্মেলনের বাজেট কমানো হয়েছে। যেখানে গত বছর বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, সেখানে এবার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় ব্যয়েই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে আয়োজন।
ডিসিদের প্রস্তাবনায় জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণসহ নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসার সম্পর্কিত প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্মেলন শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়; বরং সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো সরাসরি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
কসমিক ডেস্ক