মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে: পিস্টোরিয়াস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে: পিস্টোরিয়াস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 3, 2026 ইং
মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে: পিস্টোরিয়াস ছবির ক্যাপশন:

জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করছে। এই সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Boris Pistorius। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে আরও উৎসাহিত করবে।

শনিবার (২ মে) দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল। তিনি মনে করেন, এটি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা নীতিগত পরিবর্তনেরই অংশ। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর এখনই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে গ্রহণ করা উচিত।

এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি ইতোমধ্যেই তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর আকার বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করছে। বর্তমানে জার্মান বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হলেও তা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পিস্টোরিয়াস জোর দিয়ে বলেন, NATO জোটের ভেতরে থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তার মতে, ন্যাটোর সম্মিলিত শক্তিকে আরও কার্যকর করতে সদস্য দেশগুলোর স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে Pentagon জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মতভেদ দেখা যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রত্যাহারকৃত সেনার সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও বেশি হতে পারে। তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এছাড়া এই সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ববর্তী প্রশাসনের কিছু সামরিক পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে গেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি আর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

যদিও জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, তবে ইউরোপের সব দেশ একইভাবে বিষয়টি দেখছে না। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি ন্যাটোর কিছু মিত্র দেশ এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে জার্মানির অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তারা মনে করছে, এই পরিবর্তনই ইউরোপকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে তুলবে।

সব মিলিয়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ঘিরে ইউরোপে নতুন করে নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের আলোচনা শুরু হয়েছে। জার্মানি এই পরিবর্তনকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইলেও অন্যান্য দেশগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সামরিক ভারসাম্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি চূড়ান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রীর মন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি চূড়ান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রীর মন