এলপিজি সংকট কাটছে, স্টেশনগুলোতে বাড়ছে সরবরাহ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এলপিজি সংকট কাটছে, স্টেশনগুলোতে বাড়ছে সরবরাহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
এলপিজি সংকট কাটছে, স্টেশনগুলোতে বাড়ছে সরবরাহ ছবির ক্যাপশন:

দেশের এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের সংকট কাটিয়ে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ স্টেশন বন্ধ ছিল, সেখানে বুধবার থেকে প্রায় সব স্টেশনেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

এর আগে সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক স্টেশন বন্ধ ছিল বা সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এলপিজিচালিত যানবাহনের চালকরা। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা সিএনজি বা অকটেনের মতো বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছেন, যা অন্যান্য জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ এলপিজিচালিত যানবাহন রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এই বড় একটি খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। সরবরাহ সংকটের কারণে শুধু পরিবহন খাত নয়, সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, দেশে এলপিজি আমদানি বাড়লেও বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতেও আমদানি ছিল প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে আমদানি বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৩০টি এলপিজি অপারেটর থাকলেও নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠান। ফলে অধিকাংশ স্টেশন প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছে না এবং অনেককে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে স্টেশন মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের স্টেশনগুলোতে মাসে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই চাহিদা পূরণে অপারেটরদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু অপারেটর বেশি লাভের আশায় স্টেশনগুলোতে সরবরাহ না দিয়ে সিলিন্ডারে রিফিল করে বাজারজাত করছেন। এতে করে স্টেশনগুলো গ্যাস সংকটে পড়ছে এবং বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তার মতে, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি স্টেশন লোকসানে চলছে।

অন্যদিকে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে এলপিজি আমদানি বেড়েছে এবং কোম্পানিগুলো বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সংকটের জন্য সবসময় আমদানিকারকদের দায়ী করা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে ডিলারদের মজুদ করে রাখার প্রবণতার কারণে খুচরা পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনার এই দুর্বলতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এলপিজি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা, বাজার তদারকি বাড়ানো এবং মূল্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এলপিজি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পিরোজপুরে তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন—চরম ভোগান্তিতে চালকর

পিরোজপুরে তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন—চরম ভোগান্তিতে চালকর