নাটোরের লালপুর উপজেলায় প্রবাসীদের টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাসেদ আলী (১৭), আব্দুল্লাহ (১৯), আব্দুল্লাহ আল বায়োজিদ (১৮), লালন আলী (২১) এবং শাকিল (১৯)। তারা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মো. মুনসুপ আলী, আল মাসুম এবং মো. আনছার আলী। পুলিশের একটি বিশেষ দল পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে বসে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করত। তারা মূলত হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার এবং ইমো-এর আইডি টার্গেট করত।
এই চক্রটি বিশেষভাবে প্রবাসীদের লক্ষ্য করে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করত। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীর পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাইত এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সংগঠিতভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
শফিকুল ইসলাম, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান, “আমরা পানসিপাড়া ও নাওপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের টার্গেট করে এই ধরনের প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। তাই সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই স্তরের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখা এবং অচেনা লিংকে ক্লিক না করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, লালপুরে প্রবাসীদের টার্গেট করে পরিচালিত এই সাইবার প্রতারণা চক্র ভেঙে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক