বৃষ্টিতেও কমেনি দূষণ, বিশ্ব তালিকায় পঞ্চমে ঢাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বৃষ্টিতেও কমেনি দূষণ, বিশ্ব তালিকায় পঞ্চমে ঢাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 1, 2026 ইং
বৃষ্টিতেও কমেনি দূষণ, বিশ্ব তালিকায় পঞ্চমে ঢাকা ছবির ক্যাপশন:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে বিশ্বজুড়ে, আর এর অন্যতম বড় শিকার হচ্ছে নগরাঞ্চলের বায়ুমান। সেই বাস্তবতায় রাজধানী ঢাকাও পিছিয়ে নেই। বরং বৃষ্টিপাত থাকা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

শুক্রবার (০১ মে) বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে দেখা গেছে, ১০৭ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোরকে ‘মাঝারি’ ধরা হলেও এটি সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়।

এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ, যার স্কোর ১৩৩। একই স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার স্কোর ১৩২ এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কলকাতা, যার স্কোর ১২৯। এসব শহরের বায়ুমান সংবেদনশীল মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত বৃষ্টিপাত হলে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণাগুলো কিছুটা ধুয়ে যায়, ফলে বায়ুর মান উন্নত হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ‘মাঝারি’, আর ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত স্কোর হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর হলে সেটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা সবার জন্যই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকার বর্তমান ১০৭ স্কোর তাই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এই মাত্রার দূষণ ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা এ অবস্থায় বাইরে কম বের হওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে না থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে সাধারণত পাঁচটি উপাদান বিবেচনা করা হয়—বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং ওজোন (O3)। এসব উপাদান মানুষের শ্বাসতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে এবং নানা ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নগর পরিকল্পনা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা, শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও ঢাকার বায়ুমানের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে, প্রাকৃতিক উপায়ে দূষণ কমার আশা করলেই চলবে না—বরং প্রয়োজন কার্যকর নীতি, কঠোর বাস্তবায়ন এবং সচেতন নাগরিক উদ্যোগ। রাজধানীর বাসিন্দাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী