ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে থামাতে পারলো না মার্কিন সিনেট The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে থামাতে পারলো না মার্কিন সিনেট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 16, 2026 ইং
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে থামাতে পারলো না মার্কিন সিনেট ছবির ক্যাপশন:

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সিনেট। এটি ছিল এ ধরনের চতুর্থ প্রচেষ্টা, যা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে পরাজিত হয়। এই ভোটের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কংগ্রেসের ভেতরে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। যদিও প্রস্তাবের সমর্থকরা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।

এই প্রস্তাবটি মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উত্থাপন করা হয়। সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন, যা সংবিধানগত প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। এই আইনি সীমারেখা নিয়েই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই যুদ্ধকে “অব্যবস্থাপনা ও ভুল পরিকল্পনার ফল” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং ইতোমধ্যে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব এবং তিনি সেটিই করছেন। তার মতে, এই ধরনের প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয় এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যদিও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী সমাধান আসেনি, তবে উভয় পক্ষই নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। তার এমন মন্তব্য কংগ্রেসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয় এবং যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেখানে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তবে উভয় কক্ষে পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা কঠিন হবে।

আইন অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধ ৬০ দিনে পৌঁছালে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। অন্যথায় প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করতে হতে পারে। এই আইনি বাধ্যবাধকতা সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগে জড়িত জাহাজগুলোকে তল্লাশি বা জব্দ করা হতে পারে।

এর জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই ধরনের নৌ অবরোধ চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।a


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মা-পরিবার নিয়ে ভোট দিলেন সুফিয়ান

চট্টগ্রাম-৯ আসনে মা-পরিবার নিয়ে ভোট দিলেন সুফিয়ান