চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩০ টাকা হিসেবে)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক বেশি। গত বছর একই সময়ে দেশে এসেছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, অর্থাৎ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
গড় হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা সাম্প্রতিক সময়ে একটি ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ওই মাসে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে আসে ৩০২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।
ডিসেম্বর মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী, যেখানে এসেছে ৩২২ কোটি ডলার। নভেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে ২৮৮ কোটি এবং ২৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। একইভাবে সেপ্টেম্বর ও আগস্ট মাসেও ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি নিরুৎসাহিত করা, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা এবং ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনার ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।
এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবাহ। এই রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
কসমিক ডেস্ক