ইউরোপে ন্যাটো অভিযানে ব্যবহৃত সামরিক বিমান ও নৌ সরঞ্জামের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দুইজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে একটি লিখিত নথির মাধ্যমে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোকে এই পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউরোপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাটো মিশনের জন্য বরাদ্দ করা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ এবং এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক টহল বিমানের সংখ্যা ২৬ থেকে কমিয়ে ১৫-এ নামিয়ে আনার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে ইউরোপের জন্য বরাদ্দ করা আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী আটটি বিমান প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব বিমান ন্যাটো বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনা এবং যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই পুনর্বিন্যাসের আওতায় একটি বিমানবাহী রণতরী, একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ এবং কৌশলগত বোমারু বিমানও অন্যত্র স্থানান্তর করা হতে পারে। ফলে ইউরোপ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আগের তুলনায় কমে যেতে পারে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ন্যাটোর দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার সক্ষমতা এবং আকাশপথে নজরদারি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই ধরনের সক্ষমতা ন্যাটো জোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ন্যাটোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিতে পারে।
তবে এখনো এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের অংশও হতে পারে। এর ফলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং ন্যাটোর কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক