কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার Filipnagar Union এলাকায়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত পীর Shamim Reza (Jahangir) ও তার অনুসারীরা ধর্মবিরোধী ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার করছিলেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সংগঠিত হয়ে তার আস্তানার দিকে অগ্রসর হন।
ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় কথিত পীর ও তার অনুসারীদের মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য করতেন। এর ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
জানা যায়, শামীম রেজা স্থানীয় এক শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি ধর্মীয় আস্তানা গড়ে তোলেন, যা নিয়ে ধীরে ধীরে বিতর্ক তৈরি হয়।
এর আগেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) Arifur Rahman জানান, একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা তারা পর্যালোচনা করছেন। ভিডিওটি পুরোনো বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি দেখে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আস্তানায় হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক