পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের কোনো মা-বোনই সতিনের ঘর চায় না। তবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জামায়াতে ইসলামী সেই ধরনের আইন বাস্তবায়নের পথে এগোবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের একাতার মোড়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরহাদ আজাদ বলেন, সম্প্রতি হাইকোর্টের মাধ্যমে এমন একটি আইনি ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, যেখানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতা নেই। তার দাবি, দেশের নারীরা এমন বাস্তবতা কখনোই চান না। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে সেই আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে জামায়াতে ইসলামী, যার ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ পরিবারগুলোকে।
তিনি আরও বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয় আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ভোট না দিলে মুসলিমত্ব থাকবে না বা জান্নাতে যাওয়া যাবে না—এমন বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী দাবি করেন, ক্ষমতায় গেলে ওই দল পীরের মাজার, তরিকা, বাউলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করবে। বিএনপি সব মত ও বিশ্বাসকে সম্মান করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিপুল প্রাণহানি ও নারীদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ী শক্তিই আবার ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাই এবার ভোটারদের কাছে তার আহ্বান—আর কোনো ভুল নয়। স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন আর মাথা উঁচু করতে না পারে, সে জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
উঠান বৈঠকে দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, মো. তোবারক হ্যাপী, পঞ্চগড় জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পামুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।