ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে দাম The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে দাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 10, 2026 ইং
ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে দাম ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট। বিশেষ করে Karwan Bazar এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি দোকানেই কেবলমাত্র ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্রেতাকে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে, তবুও প্রয়োজনমতো তেল কিনতে পারছেন না। ফলে কম পরিমাণে তেল কিনে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিদিন যে পরিমাণ সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদা থাকে, তার তুলনায় বর্তমানে মাত্র পাঁচভাগের একভাগ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে একধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতাদের আরও অভিযোগ, সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো শুধু তেল কম দিচ্ছে না, বরং কমিশনও কমিয়ে দিয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে এবং অনেক সময় ক্রয়মূল্যের কাছাকাছি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ঈদের পর থেকেই এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে জানান ডিলাররা। তারা মনে করছেন, এটি স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে দাম বাড়ানো।

ইতোমধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলা তেল লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে সেটি সহজলভ্য নয়।

এতে দেখা যাচ্ছে, বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলের দামই বেশি পড়ছে, যা একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সাধারণত বোতলজাত পণ্যের দাম বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে, কারণ এটি দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পণ্য।

এদিকে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

খোলা তেলের ক্ষেত্রেও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যদিও এসব প্রস্তাব এখনো সরকার অনুমোদন দেয়নি, তবুও বাজারে এরই মধ্যে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন Consumers Association of Bangladesh (ক্যাব) বলছে, প্রতি বছর একই সময়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় এবং পরে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হয়। ২০২২ সাল থেকে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাদের।

সংগঠনটির মতে, কালোবাজারি ও বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভোক্তারা বারবার এমন পরিস্থিতির শিকার হবেন।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর ভোজ্যতেলের বাজারে চলমান সংকট শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ বাদ, ক্ষোভ জামায়াত আমিরের

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ বাদ, ক্ষোভ জামায়াত আমিরের