স্বল্প বেতনের সরকারি চাকরি হলেও অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জমি কেনাবেচায় অনিয়ম, জাল দলিল তৈরি, ঘুষ বাণিজ্য এবং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাকির হোসেনের নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনা রয়েছে। মির্জাপুরের তেলিনা এলাকায় তার নামে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে, যার দলিলমূল্য অনেক কম দেখানো হলেও বাস্তব বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এছাড়া ওই এলাকাতেই একটি মার্কেটসহ আরও জমি রয়েছে, যেখানে অন্তত ত্রিশটি দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এখান থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা সাজানো এবং জাল দলিল তৈরি করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব কাজে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সূত্র বলছে, চাকরির শুরু থেকেই তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। মোহাম্মদপুরে স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মিরপুরে সাততলা ভবন নির্মাণ এবং নিজ জেলায় দামী জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কার থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, তিনি হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অফিস চলাকালীন অনিয়ম, মাদক গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনাও রয়েছে। এমনকি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে বাসায় ফেরার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তার প্রভাব আরও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জাকির হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং সাংবাদিকদের হুমকিও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক